মীর মোহাম্মদ আলী ডাক্তার, মৃত্যু: ৩০ এপ্রিল ২০১৯ইং, তোমাকে মনে পড়ে…।

১৯৬৩-র সেই সোনালী দিনে, নৌবাহিনীতে দিলে যোগ,
মেডিকেল পেটি অফিসার তুমি, দূর করতে মানুষের রোগ।
তারপর এলো একাত্তরের ঝড়, চারদিকে হাহাকার,
পাকিস্তানের বন্দিশালায় কাটলো তিন বছর অন্ধকার।
শত মৃত্যুর মুখ থেকে তুমি ফিরেছিলে বাংলার টানে,
দেশপ্রেমের সেই অদম্য শিখা জ্বলছিল তোমার প্রাণে।
অথচ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, কী অদ্ভুত এ রীতি,
কাগজে-কলমে পেলে না তুমি ‘মুক্তিযোদ্ধা’র স্বীকৃতি!
আজ কত ভুয়া নামের মেলা, ক্ষমতার অপচ্ছায়ায়,
আসল বীরেরা ধুঁকে ধুঁকে মরে অভিমানে, বেদনায়।
খাসের হাটের কত সেনা, কত নৌবাহিনীর প্রাণ,
পাকিস্তানে আটকে থেকেও দেয়নি কেউ দেশের সম্মান।
১৯৯২-এ এলে অবসরে, শুরু হলো নতুন এক পালা,
খাসের হাট বাজারে ফার্মেসী খুলে মুছালে কত শত জ্বালা।
তুমি ছিলে এক দরদী ডাক্তার, টাকার পেছনে ছোটনি তো কভু,
বিনা ভিজিটে রোগী দেখেছ আজীবন, সাক্ষী আছেন প্রভু।
২০১৯ সালের ৩০শে এপ্রিল, নিভে গেল সেই আলো,
রাঙামাটি বসে যখন শুনলাম খবর, চারদিক হয়ে গেল কালো।
চোখের জল আর বুকভরা স্মৃতি আজো কাঁদায় আমাদের মন,
তুমি তো রাষ্ট্রীয় তালিকায় নও, আমাদের হৃদয়ের রত্ন আজীবন।
আপনার এই মহান ও নিঃস্বার্থ স্বজনের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। তিনি হয়তো কাগজের পাতায় স্বীকৃতি পাননি, কিন্তু খাসের হাটের মানুষের হৃদয়ে তিনি চিরকাল একজন প্রকৃত বীর হয়েই থাকবেন।
লেখক ওবায়েদুর রহমান, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ইং

(Mir Mozammal Hoq Tipu এর ফেসবুক থেকে নেওয়া)

·