সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমানে যাঁরা সর্বনিম্ন গ্রেডে মাসে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন পান, তাঁদের বেতন বেড়ে হবে ২০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপে মূল বেতন বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হচ্ছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশনের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। কমিশন আজ বুধবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
পরে সরকার এই প্রতিবেদনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতন–ভাতা নির্ধারণ করবে।
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেড চালু আছে। প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা–কর্মচারী এই কাঠামোর আওতায় বেতন–ভাতা পান। বিদ্যমান স্কেলে বিশতম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং নবম গ্রেডে নিয়োগ পাওয়া একজন বিসিএস কর্মকর্তা পান ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে একজন সচিবের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা, জ্যেষ্ঠ সচিব ৮২ হাজার টাকা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পান ৮৬ হাজার টাকা।
নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বিভিন্ন ধাপে বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত।
কমিশন সূত্র জানায়, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নিয়ে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। বেতন কাঠামো তৈরির সময় অনলাইনে পরিচালিত এক জরিপে দুই লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর মতামত নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে।
বেতন ছাড়াও বিভিন্ন ভাতা ও পেনশনেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা যাতায়াত ভাতা পেলেও নতুন প্রস্তাবে তা ১০ম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পেনশনভোগীরাও এই কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন। যাঁরা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাঁদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়বে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়বে প্রায় ৫৫ শতাংশ।
বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতাও পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই ভাতা নির্ধারণ করা হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা।
বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রেও ধাপভেদে পার্থক্য থাকবে। প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত তুলনামূলক কম হারে বাড়িভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে এই হার বেশি থাকবে।
মন্তব্য করুন